ভদ্রতা নিয়ে ইসলামিক উক্তিগুলো মানুষের চরিত্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। ইসলামে ভদ্রতা বা নম্রতা (আখলাক)কে ঈমানের অংশ হিসেবে ধরা হয়। এসব উক্তিতে শেখানো হয়, মানুষের সাথে কোমলভাবে কথা বলা, সম্মান দেখানো এবং অহংকার থেকে দূরে থাকা। একজন ভদ্র মানুষ শুধু কথায় নয়, কাজে ও আচরণেও সৌন্দর্য প্রকাশ করে। ইসলাম শেখায়, ভালো আচরণ মানুষের মর্যাদা বাড়ায় এবং আল্লাহর কাছেও প্রিয় করে তোলে। তাই ভদ্রতা শুধু সামাজিক গুণ নয়, বরং একজন মুসলিমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ।
ভদ্রতা নিয়ে ইসলামিক উক্তি
ইসলামি জীবনদর্শনে ভদ্রতা ও উত্তম আচরণ ঈমানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
নিশ্চয়ই আল্লাহ কোমলতা পছন্দ করেন এবং তিনি কোমলতার জন্য যা দান করেন, তা কঠোরতার জন্য দান করেন না। (সহীহ মুসলিম)
তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আমার কাছে অধিক প্রিয়, যার চরিত্র ও ব্যবহার সবথেকে সুন্দর এবং মার্জিত। (সহীহ বুখারী)
কথাবার্তায় কর্কশতা পরিহার করুন; কারণ আপনার নম্র ব্যবহার একজন মানুষের অন্তরে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করতে পারে।
কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় সুন্দর চরিত্রের চেয়ে বেশি ওজনের আর কোনো বস্তু থাকবে না। (সুনানে তিরমিজি)
মানুষের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলো; কারণ একটি মিষ্টি কথা সদকা হিসেবে গণ্য হয় এবং আপনার আমলনামায় সওয়াব বৃদ্ধি করে।
অহংকারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে গর্বভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিককে পছন্দ করেন না। (সূরা লোকমান: ১৮)
ভদ্রতা হলো মানুষের ভূষণ। যার মধ্যে ভদ্রতা নেই, তার অর্জিত শিক্ষা ও জ্ঞানের কোনো প্রকৃত মূল্য নেই।
যে ব্যক্তি ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান দেখায় না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (সুনানে তিরমিজি)
তোমার ভাইয়ের সাথে মুচকি হেসে কথা বলাও তোমার জন্য একটি সদকা বা দানস্বরূপ। (সুনানে তিরমিজি)
প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। (সহীহ বুখারী)

মানুষের সাথে এমন আচরণ করো যেন তুমি বেঁচে থাকলে তারা তোমাকে ভালোবাসে এবং মারা গেলে তোমার জন্য অশ্রু বিসর্জন দেয়।
রাগ নিয়ন্ত্রণ করা ভদ্রতার অন্যতম লক্ষণ। শক্তিশালী সেই ব্যক্তি নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়, বরং যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে।
ভদ্রতা অর্জনের জন্য প্রচুর সম্পদের প্রয়োজন নেই, কেবল একটি সুন্দর মন এবং ধৈর্যশীল হৃদয়ের প্রয়োজন হয়।
কুরআনে বলা হয়েছে, যখন মূর্খরা তোমাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়, তখন তোমরা বলো সালাম (শান্তি)। (সূরা আল-ফুরকান: ৬৩)
উত্তম আচরণ হলো জান্নাতের পথকে সুগম করার অন্যতম মাধ্যম। সদাচারী ব্যক্তি আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় হয়ে থাকেন।
আপনার পোশাকের চেয়েও আপনার ব্যবহার যেন অধিক পরিষ্কার ও মার্জিত হয়; কারণ মানুষ পোশাকের আগে আপনার আচরণ লক্ষ্য করে।
অন্যের দোষ গোপন রাখা এবং ক্ষমা করা মহানুভবতার পরিচয়। আল্লাহ ক্ষমাশীলদের ভালোবাসেন এবং তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
তর্ক এড়িয়ে চলাই হলো বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। যে ব্যক্তি সত্য পথে থাকা সত্ত্বেও তর্ক ত্যাগ করে, তার জন্য জান্নাতে গৃহ নির্মিত হয়।
ভদ্রতা হলো এমন এক ভাষা যা বধিররা শুনতে পায় এবং অন্ধরা দেখতে পায়। এটি আত্মার এক অনন্য সৌন্দর্য।
যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া দেখায় না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া দেখান না। দয়া ও ভদ্রতা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।
পরিবারের সদস্যদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করা সর্বোত্তম ভদ্রতা। তোমাদের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ, যে তার পরিবারের কাছে শ্রেষ্ঠ। (তিরমিজি)
মিথ্যা বলা পরিহার করুন এবং সর্বদা সত্য কথা বলুন; সত্যবাদিতা মানুষকে ভদ্র ও সম্মানিত করে তোলে।
কাউকে উপহাস করো না, হতে পারে সে আল্লাহর কাছে তোমার চেয়েও অধিক উত্তম এবং সম্মানিত। (সূরা হুজুরাত: ১১)
প্রতিটি কথায় ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা একজন মুমিনের নম্রতা ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ ঘটায়।
ভদ্রতা হলো অন্তরের নূর, যা মানুষের চেহারায় প্রতিফলিত হয়। ঈমানদার ব্যক্তি সর্বদা নম্র এবং বিনয়ী হয়ে থাকেন।
অযথা কথা বলা পরিহার করুন। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (বুখারী)
পিতা-মাতার সাথে কখনও ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদের সাথে সর্বদা সম্মানজনক ও নম্র ভাষায় কথা বলো। (সূরা বনী ইসরাঈল: ২৩)

বিবাদে লিপ্ত হয়ে কটু কথা বলা মুনাফিকের লক্ষণ। ঈমানদার ব্যক্তি সর্বদা তার মুখ ও ভাষাকে পবিত্র রাখেন।
বিনয় মানুষকে উচ্চ মর্যদা দান করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চাসনে আসীন করেন।
ভদ্রতা শিখতে হলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনী পড়ুন; তিনি ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।
নিজের ভুল স্বীকার করা এবং ক্ষমা চাওয়া দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি মহান চারিত্রিক গুণ ও ভদ্রতা।
কারও অনুমতি ছাড়া তার ঘরে প্রবেশ করো না এবং অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে অহেতুক কৌতূহল দেখিও না। (সূরা নূর: ২৭)
ধৈর্য এবং সহনশীলতা হলো ভদ্রতার প্রাণ। বিপদে ধৈর্য ধরুন এবং অন্যের অন্যায়ে সহনশীল হওয়ার চেষ্টা করুন।
মানুষের হৃদয় জয় করার চাবিকাঠি হলো উত্তম ব্যবহার। তলোয়ার দিয়ে যা সম্ভব নয়, সুন্দর আচরণ দিয়ে তা সম্ভব।
পরনিন্দা ও গীবত থেকে নিজের জিহ্বাকে রক্ষা করুন; কারণ এটি ভদ্রতা ও ঈমান উভয়কেই ধ্বংস করে দেয়।
প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করুন। জিবরাঈল (আ.) প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে এত বেশি তাগিদ দিয়েছেন যে আমি উত্তরাধিকারী বানানোর আশঙ্কা করেছিলাম। (বুখারী)
জ্ঞানী ব্যক্তি তর্কে লিপ্ত হয় না বরং ভদ্রতার সাথে নিজের মতামত প্রকাশ করে এবং অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে।
শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে কথা বলা ভদ্রতার লক্ষণ। উচ্চস্বরে চিৎকার করে কথা বলা গাধার স্বরের মতো অপ্রীতিকর। (সূরা লোকমান: ১৯)
কাউকে সাহায্য করার পর খোটা দিও না; এটি আপনার দানের সওয়াব নষ্ট করে এবং আপনার অভদ্রতা প্রকাশ করে।
মানুষের উপকার করা এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানো একটি মহান ইবাদত। পরোপকারী ব্যক্তি আল্লাহর অত্যন্ত নিকটবর্তী থাকেন।
ভদ্রতা হলো এমন একটি বিনিয়োগ যার কোনো লোকসান নেই, কেবল সম্মান ও ভালোবাসার মুনাফা পাওয়া যায়।
আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করা এবং মানুষের সামনে সর্বদা হাসিমুখে থাকা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য ও বড় গুণ।
যার ভাষা যত সুন্দর, তার ব্যক্তিত্ব তত আকর্ষণীয়। সুন্দর ভাষা আপনার বংশ ও শিক্ষার পরিচয় বহন করে।
উপহার আদান-প্রদান করো, এতে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং অন্তরের সংকীর্ণতা দূর হয়ে যায়। (আল-আদাবুল মুফরাদ)
অন্যায় দেখলে ভদ্রভাবে প্রতিবাদ করুন, কিন্তু কখনও নিজের মেজাজ হারিয়ে অভদ্র আচরণ করবেন না।
খাবার খাওয়ার সময় এবং মজলিসে বসার সময় ভদ্রতা বজায় রাখা সুন্নাহ। অন্যের সুবিধা আগে দেখা মুমিনের কাজ।
যিনি যত বেশি শিক্ষিত, তিনি তত বেশি বিনয়ী ও ভদ্র হওয়া উচিত। ফলবতী গাছ যেমন নুয়ে থাকে।
অহংকার পতনের মূল। মনে রাখবেন, আল্লাহ অহংকারীকে ঘৃণা করেন এবং বিনয়ীকে জান্নাতের সুসংবাদ দান করেন।
সালামের প্রসার ঘটাও; কারণ সালাম মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেয় এবং অহংকার দূর করে।
বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সান্ত্বনা দেওয়া একজন আদর্শ মানুষের ভদ্রতা ও প্রধান দায়িত্ব।
কারও শারীরিক ত্রুটি নিয়ে ঠাট্টা করো না; কারণ আল্লাহই তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি সব সৃষ্টির স্রষ্টা।

ভদ্রতা হলো অন্ধকারের মধ্যে একটি মোমবাতি, যা অন্যকেও পথ দেখায় এবং নিজের চারপাশকেও আলোকিত করে রাখে।
প্রকৃত আভিজাত্য রক্তে নয়, বরং সুন্দর চরিত্রে নিহিত। যার চরিত্র সুন্দর নয়, তার আভিজাত্যের কোনো মূল্য নেই।
নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং একজন মানুষকে সত্যিকারের ভদ্র হিসেবে গড়ে তোলে।
সবাইকে সম্মান দিন; কারণ সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়। ছোট-বড় ভেদাভেদ না করে সবার সাথে সদ্ব্যবহার করুন।
ভদ্রতা হলো সেই সুগন্ধ যা কখনও শেষ হয় না এবং যার রেশ মানুষের মনে আজীবন থেকে যায়।
আল্লাহর জিকিরে অন্তর শান্ত থাকে এবং শান্ত অন্তর থেকে সর্বদা মার্জিত ও সুন্দর আচরণ প্রকাশ পায়।
ভদ্রভাবে কথা বলা মানে এই নয় যে আপনি দুর্বল, বরং এটি আপনার শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ও ধৈর্যশীলতার পরিচয়।
আপনার আচরণ যদি অন্যকে কষ্ট দেয়, তবে বুঝে নিন আপনার ঈমানে কোথাও বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
মুমিন ব্যক্তি কখনও অভিশাপ দেয় না, কটু কথা বলে না এবং অশ্লীল আচরণ করে না। (তিরমিজি)
সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেও মাটির দিকে নজর রাখা হলো প্রকৃত বিনয় এবং সত্যিকারের বড় মানুষের পরিচয়।
ভদ্রতা মানেই হলো অন্যের অধিকারের প্রতি সচেতন থাকা এবং নিজের সীমার মধ্যে অবস্থান করে জীবনযাপন করা।
আল্লাহর সাহায্য সর্বদা সেই ব্যক্তির সাথে থাকে, যে অন্যের বিপদে সাহায্য করে এবং মানুষের সাথে সদাচরণ করে।
নিজের জন্য যা পছন্দ করো, তোমার ভাইয়ের জন্যও তা পছন্দ করো তবেই তুমি পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবে। (বুখারী)
পরিশ্রমী হওয়া এবং মানুষের কাছে হাত না পাতা হলো আত্মসম্মানবোধ ও ভদ্রতার একটি বড় উদাহরণ।
উপকারী মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন; কারণ যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ নয়। (তিরমিজি)
ভদ্রতা কোনো কৃত্রিম বিষয় নয়, এটি অন্তর থেকে উৎসারিত একটি স্বতঃস্ফূর্ত গুণ যা মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনে।
হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখুন; কারণ হিংসা নেক আমলগুলোকে সেভাবে ধ্বংস করে যেমন আগুন কাঠ পুড়িয়ে দেয়।
অচেনা মানুষের সাথেও ভদ্রভাবে কথা বলুন; হয়তো আপনার একটি সুন্দর বাক্য তার পুরো দিনটি বদলে দিতে পারে।
ভদ্রতার প্রথম পাঠ শুরু হয় নিজের ঘর থেকে। নিজের ভাই-বোন ও আত্মীয়দের সাথে সুন্দর ব্যবহার করুন।
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা ঈমানের একটি শাখা এবং এটি সামাজিক ভদ্রতার অন্যতম প্রধান অংশ।
যিনি কথা কম বলেন এবং কাজ বেশি করেন, তিনি সমাজের মানুষের কাছে অনেক বেশি প্রিয় ও শ্রদ্ধেয় হন।
ভদ্রতা ও লজ্জা ঈমানের দুটি বিশেষ গুণ। যার মধ্যে লজ্জা নেই, তার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।
দামি গাড়ি বা বাড়ি আপনাকে বড় করতে পারে না, আপনার সুন্দর ব্যবহারই আপনাকে মানুষের হৃদয়ে স্থান দেয়।
ভদ্রতা হলো একটি ঢাল যা আপনাকে অহেতুক বিবাদ ও পাপ কাজ থেকে রক্ষা করে জীবনকে সুন্দর করে।

অন্যায়ের বদলা দয়া দিয়ে নেওয়া হলো ইসলামের মহান শিক্ষা। এটি শত্রুকেও বন্ধুতে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে।
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না এবং মানুষের প্রতি কঠোর হবেন না। সর্বদা দয়ালু ও সহনশীল থাকুন।
প্রতিটি কাজ ‘বিসমিল্লাহ’ দিয়ে শুরু করা এবং শেষ করা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ভদ্রতার বহিঃপ্রকাশ।
অন্যের কথা না বলে আগে নিজের দোষ খুঁজুন এবং নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করুন; এটিই বুদ্ধিমানের কাজ।
ভদ্রতা হলো এমন একটি বীজ যা বপন করলে সম্মান ও শান্তির ফসল ঘরে তোলা যায় আজীবন।
আল্লাহর ইবাদতের পর সবথেকে বড় ইবাদত হলো মানুষের মনে আনন্দ দেওয়া এবং তাদের সেবা করা।
আপনার জ্ঞান যদি আপনাকে বিনয়ী না করে, তবে সেই জ্ঞানের চেয়ে মূর্খতা অনেক বেশি ভালো।
ভদ্রতা হলো আত্মার প্রশান্তি। আপনি যখন অন্যের সাথে ভালো ব্যবহার করেন, তখন আপনার নিজের মনও শান্ত থাকে।
ওয়াদা রক্ষা করা ভদ্রতার অপরিহার্য অংশ। মুমিন ব্যক্তি কখনও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে না এবং আমানতের খেয়ানত করে না।
কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলেই আপনি জগতের সবথেকে বড় ভদ্র ও আদর্শ মানুষ হতে পারবেন।
ভদ্রতা মানে হলো অন্যের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল থাকা এবং কাউকে মানসিকভাবে আঘাত না দিয়ে কথা বলা।
আল্লাহ যাকে সৌন্দর্য দিয়েছেন, সে যেন তার ব্যবহারে সেই সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটায়। রূপের চেয়ে গুণের মর্যাদা বেশি।
অল্পে তুষ্ট থাকা এবং শুকরিয়া আদায় করা ভদ্র মানুষের বৈশিষ্ট্য। লোভ মানুষকে নিচু ও অভদ্র করে ফেলে।
মিষ্টি হাসি দিয়ে কথা বলা শুরু করুন; এটি আপনার ব্যক্তিত্বকে উজ্জ্বল করবে এবং পরিবেশকে আনন্দময় করে তুলবে।
ভদ্রতা হলো এমন এক সম্পদ যা দান করলে কমে না, বরং বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের ভালোবাসা পাওয়া যায়।
যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্যের ওপর অটল থাকা এবং মিথ্যা বর্জন করা হলো প্রকৃত মানুষের চারিত্রিক দৃঢ়তা ও ভদ্রতা।
অন্যের সফলতায় আনন্দিত হওয়া এবং হিংসা ত্যাগ করা ঈমানি ভদ্রতার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ও নিদর্শন।
ভদ্রতা মানে হলো নিজের ক্রোধকে সংবরণ করা এবং ক্ষমা করার মানসিকতা অন্তরে লালন করে জীবন অতিবাহিত করা।
আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করা হলো আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার সংক্ষিপ্ত পথ। প্রাণিকুলের প্রতিও দয়া দেখানো ভদ্রতার অংশ।
আপনার অস্তিত্ব যেন অন্যের জন্য বোঝা না হয়, বরং আস্থার প্রতীক হয়; এটিই সত্যিকারের জীবনবোধ ও ভদ্রতা।
যেকোনো সমস্যার সমাধানে উগ্রতা নয়, বরং যুক্তি ও ভদ্রতাকে প্রাধান্য দিন। শান্তি সব সময় জয়ী হয়।
ভদ্রতা হলো মানুষের রুচির পরিচয়। আপনার পছন্দ এবং আচরণই বলে দেয় আপনি মানসিকভাবে কতটা উন্নত ও শিক্ষিত।
ইসলাম শিখিয়েছে বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করতে; এই মূলনীতিই সমাজকে শান্তিময় ও সুন্দর করে তোলে।
ভদ্রতা হলো ইবাদতের প্রাণ। আপনি কত বড় আলেম তার চেয়ে বড় পরিচয় হলো আপনি মানুষের সাথে কেমন ব্যবহার করেন।
হে আল্লাহ! আপনি আমার সৃষ্টিকে যেমন সুন্দর করেছেন, আমার চরিত্রকেও তেমনি সুন্দর ও মার্জিত করে দিন। আমিন।
এই ছিল আমাদের আজকের ভদ্রতা নিয়ে ইসলামিক উক্তি, আপনাদের পছন্দের উক্তি না পেলে আমাদের জানাবেন নতুন উক্তি যোগ করে দিব।