জীবন নিয়ে ইসলামিক উক্তি মানুষের জীবনকে সুন্দর, সৎ ও আল্লাহর পথে পরিচালিত করার শিক্ষা দেয়। ইসলাম অনুযায়ী, এই দুনিয়ার জীবন সাময়িক এবং আখিরাতই চিরস্থায়ী। তাই ইসলামিক উক্তিগুলো মানুষকে ধৈর্য, সততা, ক্ষমা ও নেক আমলের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। কঠিন সময়ে এসব উক্তি মানসিক শান্তি ও সাহস জোগায়। অনেক ইসলামিক উক্তিতে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, নামাজ আদায় করা এবং মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করার উপদেশ থাকে। এসব উক্তি শুধু কথা নয়, বরং সুন্দর জীবন গড়ার দিকনির্দেশনা। কারণ ইসলামের আলো অনুসরণ করলে মানুষ প্রকৃত শান্তি ও সফলতা অর্জন করতে পারে।
জীবন নিয়ে ইসলামিক উক্তি
দুনিয়া হলো মুমিনের জন্য কারাগার আর কাফেরের জন্য জান্নাত। তাই এখানে কষ্টের মুখোমুখি হলে নিরাশ হবেন না, কারণ আপনার আসল ঘর জান্নাতে।
জীবনকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য সাজান, কারণ মৃত্যু কোনো বয়স দেখে আসে না। আজ আপনি যা করছেন, কাল তা-ই আপনার কবরের সঙ্গী হবে।
আল্লাহর ওপর ভরসা করা মানে হলো এমন এক শক্তিশালী হাত ধরা, যা আপনাকে কোনোদিন বিপদে একাকী ছেড়ে যাবে না। ভরসা কেবল আল্লাহর ওপর।
প্রতিটি নিঃশ্বাস আমাদের মৃত্যুর দিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই সময় থাকতে আমল করুন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যান।
দুনিয়ার সব কিছু হারানো মানেই শেষ নয়, যদি আপনার সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকে। আল্লাহ যার সাথে আছেন, তার হারানোর কিছু নেই।
জীবন এক অনিশ্চিত সফর। এখানে আমরা সবাই মুসাফির। তাই মুসাফিরের মতো জীবন কাটান এবং আখেরাতের জন্য প্রয়োজনীয় পাথেয় সংগ্রহ করতে ভুলবেন না।
কপালে যা লেখা আছে তা আপনার কাছে পৌঁছাবেই, এমনকি যদি তা দুই পাহাড়ের নিচেও থাকে। তাই অযথা দুশ্চিন্তা করে নিজের ঈমান হারাবেন না।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হলো জীবনের শ্রেষ্ঠ ইনভেস্টমেন্ট। এটি আপনাকে দুনিয়াতে শান্তি দেবে এবং পরকালে মহান আল্লাহর সামনে জান্নাতের চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করবে।
আল্লাহ আমাদের অভাব দিয়ে পরীক্ষা করেন আবার প্রাচুর্য দিয়েও পরীক্ষা করেন। উভয় অবস্থায় ধৈর্য এবং শোকর আদায় করাই হলো প্রকৃত মুমিনের মূল পরিচয়।
অতীতের পাপের জন্য তওবা করুন এবং বর্তমানকে নেক আমল দিয়ে সাজান। মনে রাখবেন, আল্লাহ তওবাকারীকে অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং তার গুনাহ মাফ করে দেন।
মানুষের সমালোচনাকে গুরুত্ব দেবেন না। মানুষ আজ ভালো বলবে, কাল মন্দ বলবে। আপনি কেবল আপনার রবের সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে যান।

জান্নাত হলো সেই ঘর যার কোনো শেষ নেই। সেই অনন্তকালের সুখের জন্য এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার সাময়িক আরাম বিসর্জন দেওয়াটাই হলো প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা।
মুমিনের কোনো কাজই বৃথা যায় না। বিপদে ধৈর্য ধরলে সওয়াব পাওয়া যায়, আর সুখে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন।
নিজের অন্তরকে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে পবিত্র রাখুন। একটি পরিচ্ছন্ন হৃদয় আল্লাহর জিকিরে যতটা প্রশান্তি পায়, তা অন্য কোনো কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়।
মৃত্যু হলো জীবনের শেষ নয়, বরং এটি এক নতুন জীবনের শুরু। সেই জীবনের জন্য নিজেকে এমনভাবে প্রস্তুত করুন যেন জান্নাত হয় আপনার ঠিকানা।
পার্থিব ধন-সম্পদ আপনার কবরের দরজায় থেমে যাবে, কিন্তু আপনার করা নেক আমলগুলো অন্ধকার কবরে আপনাকে আলোর দিশা দেখাবে এবং সাহস জোগাবে।
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবেন না। তিনি আপনার না বলা কথাগুলোও শোনেন এবং আপনার চোখের পানির মূল্য দিতে জানেন। ধৈর্য ধরুন, নিশ্চয়ই বিজয় নিকটেই।
জীবনকে কুরআনের আলোয় রাঙিয়ে তুলুন। কুরআন কেবল একটি কিতাব নয়, এটি অন্ধকার পথে আলোর মশাল এবং সঠিক পথ দেখানোর এক জীবন্ত গাইড।
অন্যের দোষ খোঁজা বন্ধ করে নিজের ভুলগুলো সংশোধনে মনোযোগী হোন। যে নিজের নফসকে চিনতে পেরেছে, সে তার রবকেও চিনতে পেরেছে।
অল্পে তুষ্ট থাকাই হলো বড় সচ্ছলতা। দুনিয়ার চাকচিক্য দেখে আফসোস করবেন না, বরং আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন তার জন্য মন থেকে আলহামদুলিল্লাহ বলুন।
রিজিকের পেছনে অন্ধ হয়ে ছুটবেন না। আপনার জন্য যতটুকু নির্ধারিত আছে, তা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। কেবল হালাল পথে উপার্জনের চেষ্টা করুন।
বিপদের সময় ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়ুন এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকুন। আল্লাহ যা করেন বান্দার কল্যাণের জন্যই করেন, যদিও আমরা তা সবসময় বুঝি না।
সুন্নাহ মোতাবেক জীবন গড়ার চেষ্টা করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) এর আদর্শই হলো পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীবনব্যবস্থা। তাঁর দেখানো পথেই রয়েছে আমাদের ইহকাল ও পরকালের মুক্তি।
মা-বাবার সেবা করুন। তাঁদের হাসিমুখে তাকিয়ে থাকাও ইবাদত। মনে রাখবেন, মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যেই মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত রয়েছে।
জিহ্বা বা কথা নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। অনেক সময় একটি অনর্থক কথা আমলনামার অনেক সওয়াব নষ্ট করে দেয়। সবসময় সত্য ও সুন্দর কথা বলার চেষ্টা করুন।
আল্লাহর জিকির দিয়ে নিজের জিহ্বাকে সজীব রাখুন। ‘সুবহানাল্লাহ’ এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’র মতো ছোট্ট জিকিরগুলো কিয়ামতের দিন মিজানের পাল্লাকে অনেক ভারী করে দেবে।
সকালবেলার ইবাদত এবং দোয়া বরকতময়। সূর্য ওঠার আগেই আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিন এবং দিনের শুরুটা ইবাদতের মাধ্যমে সুন্দরভাবে করার সংকল্প করুন।
আপনার চরিত্রই আপনার ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। দাড়ি বা লেবাসের চেয়েও আপনার আচরণ যেন মানুষের কাছে ইসলামের সঠিক দাওয়াত হিসেবে পৌঁছায়।
অহংকার ত্যাগ করে বিনয়ী হোন। মাটি থেকে সৃষ্টি হয়ে মাটির ওপরে অহংকার করা সাজে না। বিনয় মানুষকে আল্লাহর কাছে অনেক উঁচুতে নিয়ে যায়।
হারাম পথে অর্জিত সুখ কখনও স্থায়ী হয় না। তিলে তিলে গড়া হালাল রিজিকই বরকতময় এবং এটিই মনে প্রকৃত তৃপ্তি ও প্রশান্তি বয়ে আনে।
সময় আল্লাহর এক বড় নেয়ামত। বৃথা সময় নষ্ট করবেন না। প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে। সময়কে কাজে লাগিয়ে জান্নাত কামাই করুন।
মানুষকে ক্ষমা করতে শিখুন। আপনি যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান, তবে অন্যের ভুলগুলোকেও ক্ষমা করার উদারতা দেখান। ক্ষমাশীল ব্যক্তিকে আল্লাহ পছন্দ করেন।
প্রার্থনা হলো মুমিনের সবথেকে শক্তিশালী হাতিয়ার। আল্লাহর কাছে দুহাত তুলে চান, তিনি দিতে লজ্জা পান না। তাঁর ভাণ্ডার অসীম ও সবার জন্য অবারিত।
মিথ্যা বলা থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। মিথ্যা সব পাপের মূল। একটি মিথ্যা ঢাকতে গিয়ে শত পাপ করতে হয়, তাই সত্যের পথে অটল থাকুন।
আল্লাহর জন্য যা ছাড়বেন, আল্লাহ তার চেয়েও উত্তম কিছু আপনাকে দান করবেন। তাঁর ওপর ভরসা করে মন্দ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করার এখনই উপযুক্ত সময়।
প্রতিবেশী এবং অসহায় মানুষের প্রতি সদয় হোন। ইসলামের শিক্ষা হলো ক্ষুধার্তকে অন্ন দেওয়া এবং আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রাখা।
তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করুন। যা আপনাকে একাকীত্বেও অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখবে। যে আল্লাহকে ভয় পায়, তাকে দুনিয়ার কেউ ভয় দেখাতে পারে না।
নিজের আমল নিয়ে কখনও বড়াই করবেন না। কবুল হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো আমলই সার্থক নয়। সর্বদা বিনয়ের সাথে আল্লাহর কাছে কবুল হওয়ার দোয়া করুন।
পর্দা হলো মুমিন নারীর অলঙ্কার এবং পুরুষের দৃষ্টির পবিত্রতা। আল্লাহর দেওয়া এই বিধানগুলো পালনের মাধ্যমেই সমাজ ও জীবনে প্রকৃত সম্মান ফিরে আসা সম্ভব।
প্রতিটি ভোর হলো নিজেকে বদলানোর একটি নতুন সুযোগ। শুকরিয়া আদায় করুন যে আল্লাহ আপনাকে আরও একটি দিন তাওবা করার সুযোগ দিয়েছেন।
বিচারের দিনের পাল্লা ভারী করতে হলে আজ থেকেই সওয়াবের কাজ বাড়িয়ে দিন। ছোট ছোট নেক কাজগুলোই সেদিন আপনার জন্য পাহাড়ের মতো বিশাল হবে।
মসজিদের সাথে নিজের হৃদয়কে জুড়ে দিন। মসজিদের প্রশান্তি আর কোথাও পাবেন না। যে যুবকের অন্তর মসজিদের সাথে থাকে, সে আল্লাহর আরশের ছায়া পাবে।
দুনিয়ার মোহ আপনাকে যেন আচ্ছন্ন না করে। মনে রাখবেন, আপনি এখানে একজন মুসাফির। আপনার স্থায়ী ঠিকানা হলো পরকাল, তাই সেখানের জন্যই ঘর সাজান।
নিজের শরীর ও পোশাক পবিত্র রাখুন। পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যেমন শরীরকে সুস্থ রাখে, তেমনি এটি মনকেও ইবাদতে বেশি আগ্রহী করে তোলে।
দ্বীন পালনে লজ্জিত হবেন না। গর্বের সাথে নিজের পরিচয় দিন এবং ইসলামের বিধানগুলো পালনে সচেষ্ট থাকুন। দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অনেক বড়।
আমানতের খেয়ানত করবেন না। কথা দিলে তা রাখার চেষ্টা করুন। বিশ্বাসযোগ্যতা হলো একজন মুমিনের সবথেকে বড় চারিত্রিক সম্পদ ও বিশেষ গুণ।
সুদ ও ঘুষ থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। এগুলি সমাজ ও জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। হালাল রুজির বরকত দিয়ে আল্লাহ আপনার জীবন পূর্ণ করে দেবেন ইনশাআল্লাহ।
মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করুন। এটি আপনাকে বিলাসিতা ও পাপ থেকে দূরে রাখবে এবং আখেরাতের প্রস্তুতির কথা সবসময় মনে করিয়ে দেবে।
আল্লাহর পথে ব্যয় করার মানসিকতা তৈরি করুন। দান করলে সম্পদ কমে না, বরং তাতে বরকত বৃদ্ধি পায় এবং তা পরকালের জন্য সুরক্ষিত থাকে।
হে আল্লাহ, আমাদের জীবনকে ইসলামের সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আমাদের শেষ পরিণাম জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।
ইসলামিক উপদেশ মূলক কথা
ইসলামিক উপদেশমূলক কথা মানুষকে সৎ পথে চলতে, ভালো কাজ করতে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় রাখতে উৎসাহিত করে। এসব কথায় ধৈর্য, সততা, ক্ষমা, নম্রতা ও মানবতার শিক্ষা পাওয়া যায়। কঠিন সময়ে ইসলামিক উপদেশ মানুষের মনে আশা ও শান্তি এনে দেয়। এছাড়া এগুলো মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে থাকতে এবং নেক আমল বাড়াতে অনুপ্রাণিত করে। ছোট ছোট উপদেশও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ ইসলামের শিক্ষা মানুষকে সুন্দর চরিত্র গঠন ও শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনের পথ দেখায়।
দুনিয়াকে হাতের তালুতে রাখুন, হৃদয়ে নয়। কারণ জাহাজ পানির ওপরে থাকলে ভেসে থাকে, কিন্তু ভেতরে পানি ঢুকলে তা ডুবে যায়।
প্রতিদিন অন্তত এক পৃষ্ঠা কুরআন তিলাওয়াত করুন। এটি আপনার হৃদয়ের অন্ধকার দূর করবে এবং মানসিক প্রশান্তি বয়ে আনবে।
নামাজকে বলবেন না যে আপনার কাজ আছে, বরং কাজকে বলুন যে আপনার নামাজের সময় হয়েছে। ইবাদত আগে, দুনিয়া পরে।
কাউকে ঘৃণা করবেন না। হয় তাকে ভালোবাসুন, না হয় তার হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। ঘৃণা কেবল আত্মিক কষ্ট বাড়ায়।
আপনার রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না। আসমান ও জমিন সৃষ্টির ৫০ হাজার বছর আগেই আল্লাহ আপনার রিজিক লিখে রেখেছেন।
মানুষের সাথে এমনভাবে কথা বলুন যেন আপনার অনুপস্থিতিতে তারা আপনার অভাব বোধ করে এবং আপনার মৃত্যুতে তারা আপনার জন্য দোয়া করে।
বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা ঈমানের অর্ধেক। মনে রাখবেন, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন এবং কষ্টের পরেই স্বস্তি দান করেন।
আল্লাহর জিকিরে জিহ্বাকে অভ্যস্ত করুন। যে ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহ তাকে ফেরেশতাদের মজলিশে স্মরণ করেন।
অহংকার করবেন না। কারণ যে মাটি থেকে আপনার জন্ম, সেই মাটির নিচেই আপনার চিরস্থায়ী ঠিকানা। বিনয় মানুষকে মহান করে।
পরনিন্দা বা গীবত করা থেকে বিরত থাকুন। এটি আপনার নেক আমলগুলোকে এমনভাবে খেয়ে ফেলে, যেমন আগুন শুকনো কাঠ পুড়িয়ে ফেলে।
মুমিন হওয়ার প্রথম শর্ত হলো নিজের জন্য যা পছন্দ করেন, অন্যের জন্যও তা-ই পছন্দ করা। স্বার্থপরতা ঈমানকে দুর্বল করে দেয়।
রিজিকের বরকত চাইলে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখুন। আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক আয়ু বৃদ্ধি করে এবং রিজিকে প্রাচুর্য দান করে।
নিজের ভুলগুলোকে বড় করে দেখুন এবং অন্যের ভুলগুলোকে ক্ষমা করতে শিখুন। ক্ষমাশীল ব্যক্তিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবেন।
পাপ কাজ হয়ে গেলে সাথে সাথেই একটি নেক কাজ করুন। কেননা নেক আমল গুনাহকে মুছে দেয় এবং অন্তরে প্রশান্তি আনে।
মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করুন। এটি আপনাকে দুনিয়ার লোভ থেকে বাঁচাবে এবং আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহে আগ্রহী করে তুলবে।
খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলুন এবং ডান হাত দিয়ে খাবার গ্রহণ করুন। শয়তান সেই ব্যক্তির সাথে খাবার খায় যে আল্লাহর নাম নেয় না।
আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করুন। আপনি যখন শুকরিয়া আদায় করবেন, আল্লাহ আপনার নেয়ামত আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন।
রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। রাগ আসলে বসে পড়ুন অথবা অজু করে নিন।
অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করবেন না। হতে পারে আল্লাহর কাছে সে আপনার চেয়েও বেশি প্রিয় এবং বেশি নেককার।
সবসময় সত্য কথা বলুন। সত্য মানুষকে মুক্তির পথ দেখায় আর মিথ্যা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। সত্যবাদী হওয়া মুমিনের গুণ।
মা-বাবার দোয়া গ্রহণ করুন। তাঁদের একটি দীর্ঘশ্বাস আপনার পুরো জীবনকে তছনছ করে দিতে পারে। তাঁদের সন্তুষ্টিতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি।
হালাল উপার্জনের চেষ্টা করুন। হারাম রিজিকে ইবাদত কবুল হয় না এবং তা অন্তরে এক প্রকারের অন্ধকার সৃষ্টি করে।
ছোট ছোট নেক কাজকে তুচ্ছ করবেন না। হয়তো রাস্তার একটি পাথর সরিয়ে দেওয়াই আপনার জান্নাতে যাওয়ার উসিলা হতে পারে।
আল্লাহর কাছে তওবা করতে দেরি করবেন না। তওবার দরজা সবসময় খোলা আছে, কিন্তু আপনার হায়াতের দরজা যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে।

অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ করবেন না। আল্লাহ আপনাকে যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকুন; এটাই হলো প্রকৃত সচ্ছলতা।
প্রতিটি কাজের শুরুতে সঠিক নিয়ত করুন। কারণ আপনার কাজের প্রতিদান দেওয়া হবে কেবল আপনার নিয়তের ওপর ভিত্তি করে।
অল্প কথা বলা এবং বেশি কাজ করা বুদ্ধিমানের কাজ। অনর্থক কথা ও কাজ মানুষের সময় এবং আমল উভয়ই নষ্ট করে দেয়।
কবরের আযাব থেকে বাঁচতে প্রতিদিন সূরা মুলক তিলাওয়াত করার অভ্যাস করুন। এটি অন্ধকার কবরে আপনার জন্য সুপারিশকারী হবে।
দুনিয়ার চাকচিক্য দেখে ধোঁকা খাবেন না। এটি কেবল একটি সাময়িক পরীক্ষা কেন্দ্র। আমাদের আসল গন্তব্য হলো জান্নাত।
মানুষকে সাহায্য করুন। আপনি যখন মানুষের সাহায্য করবেন, স্বয়ং আরশের মালিক আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন।
নিজেকে পাপ থেকে বাঁচাতে চাইলে সবসময় ওজু অবস্থায় থাকার চেষ্টা করুন। ওজু মুমিনের জন্য একটি আধ্যাত্মিক বর্ম।
দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করুন। জ্ঞানহীন ইবাদতের চেয়ে জ্ঞানসহ সামান্য আমল আল্লাহর কাছে অনেক বেশি মূল্যবান ও গ্রহণীয়।
হিংসা বর্জন করুন। হিংসা মানুষের মানসিক শান্তি কেড়ে নেয় এবং নেক আমলগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। সবার ভালো চান।
আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা করুন। পাখি যেমন সকালে খালি পেটে বের হয়ে রাতে ভরা পেটে ফেরে, আল্লাহ আপনাকেও তেমন দেবেন।
নিজের গোপন গুনাহের জন্য নিভৃতে আল্লাহর কাছে কাঁদুন। যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করবে না।
সময়কে গুরুত্ব দিন। কিয়ামতের দিন প্রতিটি সেকেন্ডের হিসাব দিতে হবে। বৃথা সময় নষ্ট করা জীবনের বড় ক্ষতি।
অসহায় ও এতিমদের প্রতি সদয় হোন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তিনি ও এতিমের লালনপালনকারী জান্নাতে হাতের দুই আঙ্গুলের মতো পাশাপাশি থাকবেন।
হারাম বিনোদন ও সঙ্গ ত্যাগ করুন। আপনার চারপাশের পরিবেশই নির্ধারণ করবে আপনি ভবিষ্যতে কেমন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবেন।
সালামের প্রসার করুন। পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দিন। সালাম মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি করে।
আল্লাহর সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করুন। পাহাড়, নদী ও আকাশ দেখলে স্রষ্টার মহিমা অনুভব করুন, যা আপনার ঈমানকে সতেজ করবে।
পর্দা পালন করুন এবং দৃষ্টিকে সংযত রাখুন। পবিত্র চরিত্রই মুমিনের শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার। এটি সমাজকে কলুষমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
মসজিদের সাথে অন্তরকে জুড়ে দিন। জামায়াতে নামাজ পড়ার চেষ্টা করুন। নামাজের কাতারবদ্ধ হওয়া মুসলমানদের একতার প্রতীক।
বিচারের দিনের ভয় অন্তরে রাখুন। সেদিন কোনো সুপারিশ কাজে আসবে না কেবল আল্লাহর দয়া ও নেক আমল ছাড়া।
প্রতিটি ভোরকে একটি নতুন সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করুন। আজই নিজেকে বদলানোর শপথ নিন এবং আল্লাহর পথে এক কদম এগিয়ে যান।
সুন্নাহ মোতাবেক জীবন সাজান। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি ছোট আমল পালনের মধ্যেই রয়েছে ইহকাল ও পরকালের প্রকৃত সফলতা।
ঋণমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। ঋণের বোঝা মানুষকে লাঞ্ছিত করে। যদি ঋণ নিতেই হয়, তবে তা দ্রুত পরিশোধের নিয়ত রাখুন।
বিপদে পড়লে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়ুন। এটি কেবল মৃত্যু সংবাদে নয়, যেকোনো ছোট-বড় বিপদে পড়া মুমিনের আদর্শ।
অন্যের হক নষ্ট করবেন না। মানুষের পাওনা আদায়ে অবহেলা করা বড় গুনাহ। হক নষ্টকারীর ইবাদত আল্লাহর কাছে কবুল হয় না।
সবসময় হাসিখুশি থাকুন। হাসিমুখে ভাইয়ের সাথে কথা বলাও একটি সদকা। আপনার ব্যবহার যেন ইসলামের সৌন্দর্য প্রকাশ করে।
হে আল্লাহ, আমাদের হেদায়েত দিন এবং আমাদের জীবনকে আপনার সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন। আমিন।