120+ সুন্দর ব্যবহার নিয়ে ইসলামিক উক্তি, স্ট্যাটাস ও ক্যাপশন 2026

সুন্দর ব্যবহার নিয়ে ইসলামিক উক্তি, ইসলামে সুন্দর ব্যবহারকে উচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কুরআন ও হাদিসে বারবার বলা হয়েছে মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ করা ইমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুন্দর ব্যবহার শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আচরণ, ধৈর্য, ক্ষমাশীলতা এবং সহানুভূতির মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

রাসূল (সা.) ছিলেন উত্তম চরিত্রের সর্বোচ্চ উদাহরণ, যিনি শত্রুর সাথেও সদাচরণ করেছেন। ইসলামিক উক্তিগুলো আমাদের শেখায় যে ভালো ব্যবহার মানুষের হৃদয় জয় করে এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে। রাগ, অহংকার ও কঠোরতা পরিহার করে নম্রতা ও ভালো আচরণ গ্রহণ করা একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই সুন্দর ব্যবহার ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সুন্দর ব্যবহার নিয়ে ইসলামিক উক্তি

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো জিনিস থাকবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অশালীন ও কটুভাষীকে ঘৃণা করেন।” (তিরমিজি)

“নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়, যার আচরণ ও ব্যবহার তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুন্দর এবং চমৎকার।” (বুখারি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুন্দর ব্যবহারই হলো আসল ইবাদত। কারণ উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি তার সুন্দর আচরণের মাধ্যমে নফল নামাজ ও রোজাদারের সমকক্ষ সওয়াব লাভ করে।” (আবু দাউদ)

“হজরত আলী (রা.) বলেছেন, মানুষের সাথে এমন সুন্দর ব্যবহার করো, যেন তুমি বেঁচে থাকলে তারা তোমাকে ভালোবাসে আর মরে গেলে তোমার জন্য অশ্রু বিসর্জন দেয়।”

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নম্রতা ও সুন্দর আচরণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে মূলত দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণ ও বরকত থেকে চিরতরে বঞ্চিত হলো।” (মুসলিম)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঈমানের দিক থেকে সেই মুমিন সবচেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ, যার চরিত্র ও মানুষের সাথে পারস্পরিক ব্যবহার সবচেয়ে বেশি সুন্দর এবং নম্র।” (আবু দাউদ)

“হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, মানুষের মন জয় করার জন্য তরবারির প্রয়োজন হয় না; মিষ্টি কথা আর সুন্দর ব্যবহার দিয়েই পুরো পৃথিবীকে বশ করা সম্ভব।”

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, তোমরা মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলো। কারণ তোমার ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে কথা বলাও এক ধরনের সদকা বা দান।” (তিরমিজি)

“ইসলামী মনীষীগণ বলেছেন, সুন্দর ব্যবহার হলো মনের আয়না। মানুষ বংশের পরিচয়ে নয়, বরং তার সুন্দর ও পরিমার্জিত আচরণের মাধ্যমেই সমাজে আসল সম্মান লাভ করে।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করো। কারণ যার ব্যবহার সুন্দর নয়, তার কোনো দ্বীনদারি নেই এবং সে আল্লাহর রহমত থেকে বড্ড দূরে।” (বায়হাকি)

“হজরত আলী (রা.) বলেছেন, অহংকার মানুষের সব গুণকে ধ্বংস করে দেয়, আর সুন্দর ও বিনয়ী ব্যবহার মানুষের হাজারো ত্রুটিকে বড্ড সহজে আড়াল করে দেয়।”

“নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন সর্বদা ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। কটু কথা ঈমানের পরিপন্থী।” (বুখারি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই উত্তম চরিত্র ও সুন্দর ব্যবহার মানুষের রিযিক বৃদ্ধি করে এবং মানুষের আয়ু ও ঘরের বরকত বাড়িয়ে দেয়।” (মুসনাদে আহমাদ)

“হজরত লোকমান (আ.) তার পুত্রকে বলেছিলেন, মানুষের সাথে কথা বলার সময় মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না এবং অহংকার করে জমিনে চলো না। আল্লাহ অহংকারীকে পছন্দ করেন না।”

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, জাহান্নামের আগুন এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য হারাম, যে মানুষের কাছাকাছি থাকে, মানুষের সাথে সহজ, সরল ও সুন্দর ব্যবহার করে।” (তিরমিজি)

“ইসলামের শিক্ষা হলো, ছোটদের স্নেহ করা এবং বড়দের সম্মান করা। যার মধ্যে এই সুন্দর ব্যবহারের গুণটি নেই, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (আবু দাউদ)

“হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখো এবং মানুষের সাথে সুন্দর কথা বলো; কারণ জিহ্বার একটি কটু কথা মানুষের সমস্ত আমল পুড়িয়ে ছারখার করতে পারে।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলমানরা পুরোপুরি নিরাপদ ও শান্তিতে থাকে।” (বুখারি)

“হজরত আলী (রা.) বলেছেন, মূর্খের সাথে তর্ক না করে সুন্দর আচরণের মাধ্যমে নীরবতা অবলম্বন করাই হলো একজন বুদ্ধিমান ও ঈমানদার মানুষের আসল পরিচয়।”

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, তোমরা মানুষের প্রতি দয়া ও সুন্দর ব্যবহার প্রদর্শন করো, তাহলে আসমানের মালিক আল্লাহ তোমাদের প্রতি বিশেষ দয়া ও রহমত বর্ষণ করবেন।” (তিরমিজি)

“ইসলামী জ্ঞানীদের মতে, রূপের সৌন্দর্য একদিন মলিন হয়ে যায়, কিন্তু সুন্দর ব্যবহারের সুবাস মানুষের মৃত্যুর পরও পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকে এবং স্মরণীয় করে।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাগ দমনের মাধ্যমে মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার বজায় রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে পুরস্কৃত করবেন।” (তিরমিজি)

“হজরত আবু বকর (রা.) বলেছেন, কখনো কারোর সাথে কঠোর আচরণ করো না; সুন্দর ব্যবহার শত্রুকেও পরম বন্ধুতে পরিণত করার এক অলৌকিক ক্ষমতা রাখে।”

“নবী (সা.) বলেছেন, লজ্জাশীলতা ও সুন্দর কথা ঈমানের অঙ্গ, আর নির্লজ্জতা ও কটু ভাষা মানুষের ভেতরের কপটতা এবং অহংকারের বহিঃপ্রকাশ।” (তিরমিজি)

“হজরত ফাতেমা (রা.) বলেছিলেন, নারীদের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য তাদের শালীনতা এবং চারপাশের মানুষের সাথে তাদের নম্র ও সুন্দর কথাবার্তার মাঝে লুকিয়ে থাকে।”

সুন্দর ব্যবহার নিয়ে ইসলামিক উক্তি

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ নিজে দয়ালু এবং তিনি মানুষের সুন্দর ও দয়ার্দ্র আচরণ পছন্দ করেন। কঠোরতার জন্য তিনি কোনো সওয়াব দেন না।” (মুসলিম)

“হজরত ওসমান (রা.) বলেছেন, মানুষের সাথে তোমার আচরণ যেন হয় খাঁটি মধুর মতো, যা অন্যকে শান্তি দেয় এবং নিজের আত্মাকে সর্বদা পবিত্র রাখে।”

“ইসলামের অন্যতম মহান শিক্ষা হলো, মানুষের ভুলগুলোকে ক্ষমা করা এবং সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে তাকে সঠিক পথে ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়া।”

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ জ্ঞান করো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার মতো সুন্দর ব্যবহারকেও নয়।” (মুসলিম)

“হজরত আলী (রা.) বলেছেন, ধন-সম্পদ ফুরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু সুন্দর ব্যবহারের যে সম্পদ মানুষের আত্মায় থাকে, তা কোনোদিনও শেষ হওয়ার নয়।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি কখনো লানতকারী, গালিবাজ কিংবা কটুভাষী হতে পারে না। সুন্দর ও মার্জিত শব্দচয়নই একজন প্রকৃত মুমিনের ভূষণ।” (তিরমিজি)

“হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, মানুষের দোষত্রুটি খোঁজার চেয়ে নিজের চরিত্রের সুন্দর পরিবর্তন আনা এবং সবার সাথে নম্র আচরণ করা অনেক বেশি ইবাদতের শামিল।”

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের দয়া করে না, সে আমার উম্মতের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (তিরমিজি)

“ইসলামী মনীষীগণ বলেছেন, বিদ্যা অর্জনের চেয়ে বিনয় ও সুন্দর আচরণ অর্জন করা অনেক বেশি কঠিন এবং এটিই মানুষের শিক্ষার আসল মাপকাঠি।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করাও এক ধরনের জ্ঞান। বুদ্ধিমানরা কখনো অহংকার বা রুঢ় কথার মাধ্যমে মানুষের মন ভাঙেন না।” (বায়হাকি)

“হজরত আলী (রা.) বলেছেন, যদি কারো কাছ থেকে সুন্দর ব্যবহার আশা করো, তবে প্রথমে নিজের আচরণকে সুন্দর করো। কারণ দুনিয়া এক প্রতিধ্বনির মতো।”

“নবী (সা.) বলেছেন, পরনিন্দা ও চোগলখোরি মানুষের সুন্দর চরিত্রকে কুৎসিত করে তোলে। মানুষের অনুপস্থিতিতেও তার সম্মান রক্ষা করাই হলো সুন্দর ব্যবহার।” (মুসলিম)

“হজরত লোকমান বলেছিলেন, হে বৎস! সুমিষ্ট কথার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করো। কারণ পাথরের চেয়েও শক্ত মন সুন্দর কথার আঘাতে গলে যায়।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ অবাধ্য ও দুশ্চরিত্র মানুষকে ঘৃণা করেন, আর খাঁটি বিনয়ী ও সুন্দর আচরণের মানুষকে নিজের প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করেন।” (তিরমিজি)

“হজরত আবু বকর (রা.) বলেছেন, সত্য বলা ঈমানের পরিচয়, আর মানুষের সাথে নম্র ও সুন্দর ব্যবহার বজায় রাখা সত্যকে টিকিয়ে রাখার প্রধান হাতিয়ার।”

“ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর ব্যবহার করা। যার প্রতিবেশী তার খারাপ আচরণ থেকে নিরাপদ নয়, সে কখনো প্রকৃত মুমিন হতে পারে না।” (বুখারি)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, কোনো মজলিশে সবার সাথে হাসিমুখে বসা এবং সুন্দর কথা বলা ঈমানদার মানুষের মনের উদারতা ও পবিত্রতার প্রমাণ।” (তিরমিজি)

“হজরত আলী (রা.) বলেছেন, জিদ ও ক্রোধ মানুষকে পশুর সমকক্ষ করে তোলে, আর ক্ষমা ও সুন্দর ব্যবহার মানুষকে ফেরেশতার মতো মর্যাদাবান করে তোলে।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা মানুষের সাথে সহজ আচরণ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও, মানুষকে বড্ড বেশি ভীত-সন্ত্রস্ত বা দূরে ঠেলে দিয়ো না।” (বুখারি)

“হজরত হাসান বসরী (রহ.) বলেছেন, উত্তম চরিত্র হলো কাউকে কষ্ট না দেওয়া, মানুষের কষ্টের দিনে পাশে থাকা এবং সর্বদা হাসিমুখে সুন্দর ব্যবহার করা।”

“নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না এবং সুন্দর আচরণ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না।” (আবু دাউদ)

“হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, যখন কেউ তোমার সাথে অন্যায় আচরণ করে, তখন তুমি তার সাথে সুন্দর ব্যবহার করে তাকে লজ্জিত ও অনুতপ্ত করো।”

“ইসলামের মূল সৌন্দর্যই হলো মানুষের কল্যাণ কামনা করা এবং সুন্দর ও সুমিষ্ট উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে আলোর পথে আহ্বান করা।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচলন করো এবং মানুষকে খাবার খাওয়াও। মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করো।” (তিরমিজি)

“হজরত আলী (রা.) বলেছেন, তোমার সুন্দর ব্যবহারই তোমার সবচেয়ে বড় পরিচয়; কারণ পোশাকের চাকচিক্য দিয়ে মানুষের বাইরের রূপ ঢাকা গেলেও ভেতরের রূপ চেনা যায় আচরণে।”

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কোমল এবং তিনি প্রতিটা বিষয়ে মানুষের কোমলতা ও সুন্দর আচরণ দেখতে বড্ড বেশি পছন্দ করেন।” (বুখারি)

“হজরত লোকমান বলেছিলেন, মিষ্টি কথার খরচ বড্ড কম, কিন্তু এর মূল্য অনেক বেশি। এটি মানুষের অন্তরের ক্ষতকে নিমিষেই নিরাময় করে দিতে পারে।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা অন্যের দোষ গোপন রাখো, তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাদের দোষ গোপন রাখবেন এবং তোমাদের প্রতি সুন্দর ফয়সালা করবেন।” (মুসলিম)

“হজরত ওসমান (রা.) বলেছেন, ঈমানের স্বাদ পেতে হলে আগে নিজের ক্রোধকে বিসর্জন দিতে হবে এবং মানুষের সাথে সুন্দর ও শান্ত আচরণ করতে হবে।”

“ইসলামী জ্ঞানীদের মতে, নামি বংশে জন্ম নেওয়া গর্বের কিছু নয়; যদি না মানুষের সাথে আপনার ব্যবহার সুন্দর, মার্জিত ও প্রশংসনীয় না হয়।”

“নবী (সা.) বলেছেন, কৃপণতা ও দুশ্চরিত্র—এই দুটি মন্দ স্বভাব কোনোদিনও কোনো প্রকৃত ঈমানদার মুসলমানের অন্তরে একসাথে স্থান পেতে পারে না।” (তিরমিজি)

“হজরত ওমর (রা.) বলেছেন, কারো ইবাদত দেখে মুগ্ধ হয়ো না, বরং তার লেনদেন এবং মানুষের সাথে তার সুন্দর ব্যবহার দেখে তার ঈমান পরিমাপ করো।”

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো। কারো সাথে অন্যায় বা খারাপ ব্যবহার করে তার অন্তরকে কখনো রক্তাক্ত করো না।” (বুখারি)

“হজরত আলী (রা.) বলেছেন, মানুষের সাথে এমন সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তোলো, যেন তোমার অনুপস্থিতিতেও তারা তোমার সুন্দর ব্যবহারের প্রশংসা করতে বাধ্য হয়।”

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে কাছে বসবে সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র ও সুন্দর ব্যবহার দুনিয়ায় সবচেয়ে উত্তম ছিল।” (তিরমিজি)

সুন্দর ব্যবহার নিয়ে হাদিস  

হাদিসে সুন্দর ব্যবহারকে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যার চরিত্র সবচেয়ে ভালো।

এই হাদিস আমাদের শেখায় যে ইমান শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ করাও ইমানের অংশ। সুন্দর ব্যবহার বলতে বোঝায় নম্র কথা বলা, ক্ষমাশীল হওয়া, অন্যকে সম্মান করা এবং কষ্ট না দেওয়া। রাসূল (সা.) নিজ জীবনে এ গুণের সর্বোচ্চ উদাহরণ স্থাপন করেছেন। তাই হাদিসগুলো আমাদের চরিত্র গঠনে, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং মানুষের হৃদয় জয় করতে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো জিনিস থাকবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অশালীন ও কটুভাষীকে ঘৃণা করেন।” (তিরমিজি)

“নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়, যার আচরণ ও ব্যবহার তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুন্দর এবং চমৎকার।” (বুখারি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সুন্দর ব্যবহারই হলো আসল ইবাদত। কারণ উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি তার সুন্দর আচরণের মাধ্যমে নফল নামাজ ও রোজাদারের সমকক্ষ সওয়াব লাভ করে।” (আবু دাউদ)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নম্রতা ও সুন্দর আচরণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে মূলত দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত কল্যাণ ও বরকত থেকে চিরতরে বঞ্চিত হলো।” (মুসলিম)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঈমানের দিক থেকে সেই মুমিন সবচেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ, যার চরিত্র ও মানুষের সাথে পারস্পরিক ব্যবহার সবচেয়ে বেশি সুন্দর এবং নম্র।” (আবু دাউদ)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, তোমরা মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলো। কারণ তোমার ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে কথা বলাও এক ধরনের সদকা বা দান।” (তিরমিজি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করো। কারণ যার ব্যবহার সুন্দর নয়, তার কোনো দ্বীনদারি নেই এবং সে আল্লাহর রহমত থেকে বড্ড দূরে।” (বায়হাকি)

“নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন সর্বদা ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। কটু কথা ঈমানের পরিপন্থী।” (বুখারি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই উত্তম চরিত্র ও সুন্দর ব্যবহার মানুষের রিযিক বৃদ্ধি করে এবং মানুষের আয়ু ও ঘরের বরকত বাড়িয়ে দেয়।” (মুসনাদে আহমাদ)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, জাহান্নামের আগুন এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য হারাম, যে মানুষের কাছাকাছি থাকে, মানুষের সাথে সহজ, সরল ও সুন্দর ব্যবহার করে।” (তিরমিজি)

“ইসলামের শিক্ষা হলো, ছোটদের স্নেহ করা এবং বড়দের সম্মান করা। যার মধ্যে এই সুন্দর ব্যবহারের গুণটি নেই, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (আবু دাউদ)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখের অনিষ্ট থেকে অন্য মুসলমানরা পুরোপুরি নিরাপদ ও শান্তিতে থাকে।” (বুখারি)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, তোমরা মানুষের প্রতি দয়া ও সুন্দর ব্যবহার প্রদর্শন করো, তাহলে আসমানের মালিক আল্লাহ তোমাদের প্রতি বিশেষ দয়া ও রহমত বর্ষণ করবেন।” (তিরমিজি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাগ দমনের মাধ্যমে মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার বজায় রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে মহান পুরস্কারে পুরস্কৃত করবেন।” (তিরমিজি)

“নবী (সা.) বলেছেন, লজ্জাশীলতা ও সুন্দর কথা ঈমানের অঙ্গ, আর নির্লজ্জতা ও কটু ভাষা মানুষের ভেতরের কপটতা এবং অহংকার প্রকাশের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ।” (তিরমিজি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ নিজে দয়ালু এবং তিনি মানুষের সুন্দর ও দয়ার্দ্র আচরণ পছন্দ করেন। মানুষের কঠোরতার জন্য তিনি কোনো সওয়াব দেন না।” (মুসলিম)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, কোনো ভালো কাজকেই তোমরা তুচ্ছ জ্ঞান করো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার মতো সুন্দর ব্যবহারকেও নয়।” (মুসলিম)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি কখনো লানতকারী, গালিবাজ কিংবা কটুভাষী হতে পারে না। সুন্দর ও মার্জিত শব্দচয়নই একজন প্রকৃত মুমিনের ভূষণ।” (তিরমিজি)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের দয়া করে না, সে আমার উম্মতের আদর্শের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (তিরমিজি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করাও এক ধরনের জ্ঞান। বুদ্ধিমানরা কখনো অহংকার বা রুঢ় কথার মাধ্যমে মানুষের মন ভাঙেন না।” (বায়হাকি)

“নবী (সা.) বলেছেন, পরনিন্দা ও চোগলখোরি মানুষের সুন্দর চরিত্রকে কুৎসিত করে তোলে। মানুষের অনুপস্থিতিতেও তার সম্মান রক্ষা করাই হলো সুন্দর ব্যবহার।” (মুসলিম)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ অবাধ্য ও দুশ্চরিত্র মানুষকে ঘৃণা করেন, আর খাঁটি বিনয়ী ও সুন্দর আচরণের মানুষকে নিজের প্রিয় বান্দা হিসেবে কবুল করেন।” (তিরমিজি)

“ইসলামের শিক্ষা হলো, প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর ব্যবহার করা। যার প্রতিবেশী তার খারাপ আচরণ থেকে নিরাপদ নয়, সে কখনো প্রকৃত মুমিন হতে পারে না।” (বুখারি)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, কোনো মজলিশে সবার সাথে হাসিমুখে বসা এবং সুন্দর কথা বলা ঈমানদার মানুষের মনের উদারতা ও পবিত্রতার বড় প্রমাণ।” (তিরমিজি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা মানুষের সাথে সহজ আচরণ করো, কঠিন করো না। সুসংবাদ দাও, মানুষকে বড্ড বেশি ভীত-সন্ত্রস্ত বা দূরে ঠেলে দিয়ো না।” (বুখারি)

“নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না এবং সুন্দর আচরণ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হতে পারে না।” (আবু دাউদ)

সুন্দর ব্যবহার নিয়ে হাদিস  

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচলন করো এবং মানুষকে খাবার খাওয়াও। মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করো।” (তিরমিজি)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কোমল এবং তিনি প্রতিটা বিষয়ে মানুষের কোমলতা ও সুন্দর আচরণ দেখতে বড্ড বেশি পছন্দ করেন।” (বুখারি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা অন্যের दोष গোপন রাখো, তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তোমাদের দোষ গোপন রাখবেন এবং তোমাদের প্রতি সুন্দর ফয়সালা করবেন।” (মুসলিম)

“নবী (সা.) বলেছেন, কৃপণতা ও দুশ্চরিত্র—এই দুটি মন্দ স্বভাব কোনোদিনও কোনো প্রকৃত ঈমানদার মুসলমানের অন্তরে একসাথে স্থান পেতে পারে না।” (তিরমিজি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা মজলুমের বদদোয়া থেকে বেঁচে থাকো। কারো সাথে অন্যায় বা খারাপ ব্যবহার করে তার অন্তরকে কখনো রক্তাক্ত করো না।” (বুখারি)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন আমার সবচেয়ে কাছে বসবে সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র ও সুন্দর ব্যবহার দুনিয়ায় সবচেয়ে উত্তম ছিল।” (তিরমিজি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ সুন্দর, তাই তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন। আর মানুষের স্বভাব ও চরিত্রের সৌন্দর্যই হলো তার খাঁটি ও সুন্দর ব্যবহার।” (মুসলিম)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বেঁচে থাকো; কারণ হিংসা মানুষের নেক আমলগুলোকে ঠিক সেভাবেই খেয়ে ফেলে, যেভাবে আগুন কাঠকে পুড়িয়ে দেয়।” (আবু دাউদ)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের ওপর দয়া করো না যে, আল্লাহ তার ওপর দয়া করেন না। তাই সবার সাথে নম্র ও সুন্দর ব্যবহার বজায় রাখা জরুরি।” (বুখারি)

“নবী (সা.) বলেছেন, মুমিন ব্যক্তি বড্ড সরল ও দয়ালু প্রকৃতির হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে পাপী ও মুনাফিকরা অত্যন্ত ধূর্ত, অহংকারী ও কুৎসিত ব্যবহারের অধিকারী হয়।” (তিরমিজি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ দেখবে, সে যেন তা হাত দিয়ে, জবান দিয়ে অথবা সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সংশোধন করার চেষ্টা করে।” (মুসলিম)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, চোগলখোর বা পরনিন্দাকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অন্যের সম্মানহানি করা ইসলামের দৃষ্টিতে বড্ড বড় এক অপরাধ।” (বুখারি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দ্বীনের প্রচার করো বড্ড নম্রভাবে। কারণ নম্রতা যে জিনিসে থাকে তাকে সুন্দর করে, আর যা থেকে তা কেড়ে নেওয়া হয় তা কুৎসিত হয়।” (মুসলিম)

“নবী (সা.) বলেছেন, তোমরা একে অপরের প্রতি শত্রুতা পোষণ করো না, হিংসা করো না এবং সম্পর্ক ছিন্ন করো না; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো।” (বুখারি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান ভাইয়ের সম্মান রক্ষা করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার চেহারা থেকে জাহান্নামের আগুন বড্ড দূরে সরিয়ে দেবেন।” (তিরমিজি)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, কারো ঘরের ভেতর অনুমতি ছাড়া উঁকি দেওয়া জায়েজ নেই। মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান রাখাও সুন্দর ব্যবহারের একটি অংশ।” (মুসলিম)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার কাছে ওহী পাঠিয়েছেন যে, তোমরা পরস্পর বিনয়ী হও; যেন কেউ কারো ওপর অহংকার বা জুলুম না করে।” (আবু دাউদ)

“নবী (সা.) বলেছেন, যখন কোনো বান্দা অন্য কোনো বান্দাকে ক্ষমা করে, আল্লাহ তাআলা তার সম্মান ও মর্যাদা মানুষের কাছে আরও বাড়িয়ে দেন।” (মুসলিম)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মজলুমের দোয়া ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না, এমনকি সেই মজলুম যদি কাফিরও হয়। কারো সাথে কটু আচরণ করা অন্যায়।” (মুসনাদে আহমাদ)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর জুলুম করবে না, তাকে লজ্জিত করবে না এবং তাকে কখনো তুচ্ছ জ্ঞান করবে না।” (মুসলিম)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মানুষের কষ্টদায়ক জিনিস রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়, আল্লাহ তার এই সুন্দর ব্যবহারের জন্য তাকে জান্নাত দান করেন।” (বুখারি)

“নবী (সা.) বলেছেন, পিতা-মাতার সাথে সুন্দর আচরণ করাই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির সর্বোত্তম মাধ্যম। তাদের সাথে কখনো রুঢ় বা অবহেলার সুরে কথা বলা যাবে না।” (তিরমিজি)

“রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, স্ত্রীদের সাথে তোমাদের ব্যবহার যেন সুন্দর ও উত্তম হয়; কারণ তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।” (তিরমিজি)

“নবী করীম (সা.) বলেছেন, কোনো মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে (যাচাই না করে) মানুষের কাছে বড্ড দ্রুত তা বলে বেড়ায়।” (মুসলিম)

Blogger Profile Info
Profile

Bisshas Prodhan

Hi, I’m an SEO Expert and Bangla blogger who creates simple, helpful content like quotes, captions, and educational articles. I focus on making information easy to understand for everyone. I also use SEO strategies to help websites grow and reach more people online. 🌸 Visit: Amarsikkha.com

Leave a Comment