নেক সন্তান লাভের জন্য ইসলামে দোয়া ও আমলের গুরুত্ব অনেক। কুরআনে কুরআন শরীফ-এ হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর দোয়া উল্লেখ আছে: “রব্বি হাবলি মিনাস সালিহীন” অর্থাৎ, হে আমার প্রতিপালক, আমাকে নেক সন্তান দান করুন। এ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর নেক জীবনযাপন, হালাল উপার্জন, নিয়মিত নামাজ আদায় এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখা গুরুত্বপূর্ণ আমল। গর্ভধারণের আগে ও পরে বেশি বেশি দোয়া করা, কুরআন তিলাওয়াত করা এবং ভালো পরিবেশ বজায় রাখা সন্তানকে সৎ পথে গড়তে সহায়ক হয়।
নেক সন্তান লাভের দোয়া ও আমল
নেক সন্তান বা উত্তম উত্তরাধিকার লাভ করা মহান আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে বেশ কিছু দোয়া এবং আমলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নেক সন্তান লাভের দোয়া
কুরআনে নবীদের পঠিত কয়েকটি দোয়া রয়েছে যা নেক সন্তান লাভের জন্য অত্যন্ত কার্যকর: হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়া: তিনি বৃদ্ধ বয়সে এই দোয়ার মাধ্যমে ইসমাইল (আ.)-কে লাভ করেছিলেন।
رَبِّ هَبْ لِي مِنَ الصَّالِحِينَ
উচ্চারণ: রব্বি হাবলি মিনাস সলেহীন।
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এক সৎকর্মশীল সন্তান দান করুন।’ (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১০০)
২. হজরত জাকারিয়া (আ.)-এর দোয়া:
رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ
উচ্চারণ: রব্বি হাবলি মিল্লাদুনকা যুররিয়্যাতান ত্বয়্যিবাহ, ইন্নাকা সামিউদ দুআ।
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনার পক্ষ থেকে আমাকে পবিত্র সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩৮)
৩. পারিবারিক সুখ ও নেক সন্তানের দোয়া:
رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রব্বানা হাবলানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররতা আ’ইউনিও ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ: ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানদের আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের ইমাম বানিয়ে দিন।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৭৪)
নেক সন্তান লাভের আমল
দোয়ার পাশাপাশি কিছু আমল ইবাদতের কবুলিয়াত ত্বরান্বিত করে:
অধিক হারে ইস্তিগফার করা: সুরা নূহের ১০-১২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেন। তাই প্রতিদিন অন্তত ১০০ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়া উচিত।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়: নামাজের সিজদায় এবং শেষ বৈঠকে সালাম ফেরানোর আগে ওপরের দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়া।
হালাল খাবার নিশ্চিত করা: ইবাদত কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো হালাল উপার্জন ও হালাল খাবার। দম্পতি উভয়েরই এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
সহবাসের দোয়া পড়া: স্বামী-স্ত্রী মিলনের আগে নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি পড়া জরুরি, যাতে শয়তানের প্রভাব থেকে সন্তান মুক্ত থাকে।
بِاسْمِ اللَّهِ ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রযাক্বতানা।
জীবনযাপনে পরিবর্তন
সন্তান লাভের আশায় আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখা জরুরি। হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং দান-সদকা করা নেক মাকসুদ হাসিলে সাহায্য করে। মনে রাখবেন, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা কন্যা দান করেন, যাকে ইচ্ছা পুত্র দান করেন, আবার যাকে ইচ্ছা উভয়টিই দেন বা নিঃসন্তান রাখেন। তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।