ঘুষ নিয়ে উক্তি আমাদের সততা, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। ঘুষ এমন একটি অন্যায় কাজ, যা ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসকে দুর্বল করে দেয়। ঘুষের মাধ্যমে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও এর দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি ক্ষতিকর। একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে প্রত্যেকের উচিত ঘুষ গ্রহণ ও প্রদান থেকে বিরত থাকা এবং সততা ও আদর্শকে জীবনের মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা।
ঘুষ নিয়ে উক্তি
ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের ওপরই আল্লাহর অভিশাপ।
অবৈধ পন্থায় অন্যের ধন-সম্পদ গ্রাস করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অসৎ উপায়ে অর্জিত এক টাকাও আপনার ইবাদতের সমস্ত স্বাদ ও কবুলিয়াত নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।
ঘুষের টাকায় কেনা রক্ত-মাংসে গঠিত শরীর কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তার ঠিকানা জাহান্নাম।
সাময়িক লাভের আশায় দেওয়া ঘুষ আপনাকে আখিরাতের চিরস্থায়ী লোকসানের মুখে ঠেলে দেয়।
হালাল উপার্জনের স্বল্প সম্পদে যে বরকত আছে, হারাম উপায়ের পাহাড়েও তা পাওয়া সম্ভব নয়।
মানুষ অন্ধ হয়ে ঘুষ নেয়, কিন্তু ভুলে যায় যে একজন মহান সত্তা সবকিছুই প্রত্যক্ষ করছেন।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে কারো কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া বা টাকা দাবি করাই ঘুষের সবচেয়ে ঘৃণ্য রূপ।
যে ব্যক্তি ঘুষ দিয়ে কাজ হাসিল করে, সে মূলত সমাজের ন্যায়বিচার ও অন্যের অধিকার হত্যা করে।
হারাম খাবার শরীরে রেখে যত চোখের জল ফেলে দোয়াই করুন না কেন, তা আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় না।
সাময়িক সুখের জন্য ঘুষ নিয়ে নিজের পরকাল বিক্রি করে দেওয়া সবচেয়ে বড় বোকামি।
ঘুষ দেওয়া মানে অত্যাচারীকে সমর্থন করা, আর ঘুষ নেওয়া মানে জুলুমকে পেশা বানানো।
সত্যের পথে থেকে নিজের হকের জন্য লড়াই করুন, অন্যায় আবদারের সামনে মাথা নত করে ঘুষ দেবেন না।
ঘুষের টাকা সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্য আনলেও পরিবারের আত্মায় কখনো শান্তি এনে দিতে পারে না।
আল্লাহর কাছে জবাবদিহির ভয় যার অন্তরে জীবন্ত, সে কখনো ঘুষের টাকা স্পর্শ করতে পারে না।
যে উপহার বা বকশিশের পেছনে পদের প্রভাব বা অন্যায্য স্বার্থ কাজ করে, তা-ই ঘুষ।

রুজির পরিমাণ কম হতে পারে, কিন্তু তা হালাল হলে সে ঘরে আল্লাহর রহমত অবিরত বর্ষিত হয়।
কবরের অন্ধকার ঘরে ঘুষের কোনো টাকা আপনার কাজে আসবে না, সাথে যাবে শুধু পাপাচারের বোঝা।
কোনো মুমিন কখনো ঘুষের পাপে লিপ্ত হয়ে নিজেকে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত করতে পারে না।
অবৈধ লেনদেন পরিহার করাই হলো ঈমানি দৃঢ়তা এবং প্রকৃত চরিত্রবান মানুষের পরিচয়।
পদের লোভে বা অর্থের লোভে ঘুষ নেওয়া মানে নিজের আমলনামায় নিজ হাতে জাহান্নামের আগুন লিখে দেওয়া।
নিজের সততা বিক্রি করে অর্জিত সম্পদ সম্পদ নয়, তা মানুষের ধ্বংসের মূল কারণ।
ঘুষের বিনিময়ে কারো অধিকার হরণ করা এক মারাত্মক কবিরা গুনাহ, যা কখনো আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার পথ সহজ করে না।
দুনিয়ার বিচার ব্যবস্থা এড়ালেও হাশরের ময়দানে কোনো ঘুষগ্রহীতা রেহাই পাবে না।
পরিচ্ছন্ন জীবন ও সৎ উপার্জনেই অন্তরের সত্যিকারের শান্তি লুকিয়ে থাকে।
সমাজে ঘুষের প্রসার ঘটলে আল্লাহর রহমত উঠে যায় এবং চারদিকে বিপদ-আপদ বৃদ্ধি পায়।
সন্তানকে হারাম টাকায় লালন-পালন করা মানে তাদের অজান্তেই পাপের পথে ধাবিত করা।
ইসলাম এমন এক সমাজব্যবস্থার কথা বলে যেখানে মেধা ও যোগ্যতা প্রাধান্য পাবে, ঘুষের কোনো স্থান থাকবে না।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কঠিন হতে পারে, কিন্তু ঘুষ দেওয়ার চেয়ে কষ্টের পথ বেছে নেওয়া অনেক শ্রেয়।
ঘুষ নেওয়া বন্ধ করুন, কারণ শয়তান আপনাকে ধোঁকা দিচ্ছে যে এতে আপনার কোনো ক্ষতি হবে না।
যে হাতের ওপর অন্য মানুষের হক নষ্ট করার পাপ থাকে, সেই হাত আল্লাহর দরবারে তুলতে লজ্জা হওয়া উচিত।
ঘুষমুক্ত জীবনই একজন প্রকৃত মুসলিমের সবচেয়ে বড় পরিচয় ও গর্বের বিষয়।
অপরের হক মারার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ কখনো কারো জীবনে স্থায়ী সুফল আনতে পারে না।
সৎ পথে চলার সংগ্রাম অনেক কষ্টকর হলেও এর শেষ পরিণতি সবসময়ই মহা আনন্দের।
ঘুষের প্রথা ভেঙে ফেলাই ঈমানের দাবি এবং সমাজ সংস্কারের প্রথম ধাপ।
নিজের প্রয়োজনের সীমা ছোট করুন, কিন্তু ঘুষ বা হারামের মাধ্যমে প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করবেন না।
যেকোনো উপহারের আড়ালে অন্যায় সুবিধার আদান-প্রদানই ইসলামে ঘুষ হিসেবে গণ্য হয়।
অসৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থের পরিণতি কখনোই ভালো হয় না, তা কোনো না কোনোভাবে ধ্বংস ডেকে আনে।
ঘুষ দিয়ে কাজ করানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়, এটি হলো এক ধরনের দাসত্ব গ্রহণ করা।
ঘুষ নিয়ে ইসলামিক উক্তি
ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সাময়িক স্বস্তি দিলেও আখিরাতে তা কঠিন জবাবদিহির কারণ হবে।
হালাল রিজিক অল্প হলেও তাতে বরকত আছে, কিন্তু ঘুষের পাহাড়সম সম্পদেও শান্তি নেই।
যে হাত ঘুষ গ্রহণ করে, সে হাত দোয়ার জন্য ওঠার আগে নিজের আমলের কথা ভাবা উচিত।
ঘুষ মানুষের বিবেককে দুর্বল করে, আর ঈমানকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেয়।
ঘুষ শুধু একটি অপরাধ নয়, এটি মানুষের হক নষ্ট করার একটি নিকৃষ্ট উপায়।
আল্লাহর ভয় যার অন্তরে জীবিত, সে কখনো হারাম সম্পদের দিকে হাত বাড়ায় না।
ঘুষের টাকায় গড়া সুখ একদিন দুঃখের কারণ হয়ে ফিরে আসে।
অন্যায় সুবিধা গ্রহণের জন্য দেওয়া প্রতিটি ঘুষ সমাজে অবিচারের একটি নতুন দরজা খুলে দেয়।
যে ব্যক্তি হালালকে আঁকড়ে ধরে, আল্লাহ তার জন্য এমন পথ খুলে দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।
ঘুষের মাধ্যমে জয়ী হওয়া মানে নিজের বিবেকের কাছে পরাজিত হওয়া।
সাময়িক লাভের জন্য ঘুষ গ্রহণ করা মানে চিরস্থায়ী ক্ষতির বীজ বপন করা।
মুসলিমের পরিচয় সততা, ঘুষ কখনো তার পরিচয় হতে পারে না।
ঘুষের অর্থ ঘরে প্রবেশ করলে অনেক সময় বরকত নীরবে ঘর ছেড়ে চলে যায়।
অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিটি মাধ্যমই ইসলামে ঘৃণিত, আর ঘুষ তার অন্যতম।
হালাল উপার্জনের ঘুম সবচেয়ে শান্ত, ঘুষের অর্থে কেনা বিছানায় সেই প্রশান্তি পাওয়া যায় না।
যে নিজের সন্তানকে হালাল রিজিক খাওয়ায়, সে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের ভিত্তি গড়ে দেয়।
ঘুষের টাকা যতই লুকিয়ে রাখা হোক, আল্লাহর কাছে তা কখনো গোপন থাকে না।
সত্যের পথে দেরি হতে পারে, কিন্তু ঘুষের পথে সফলতা কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না।
ঘুষ দিয়ে অর্জিত পদমর্যাদা সম্মান নয়, এটি একটি ভারী আমানত ও জবাবদিহির কারণ।

যেখানে ঘুষের প্রচলন বাড়ে, সেখানে ন্যায়বিচার ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।
হালাল রিজিকের একটি লোকমা, হারাম সম্পদের হাজার লোকমার চেয়েও উত্তম।
ঘুষ গ্রহণ করে মানুষের দোয়া নয়, অভিশাপ অর্জন করা হয়।
নিজের প্রয়োজনকে ছোট করুন, কিন্তু কখনো ঘুষের সামনে মাথা নত করবেন না।
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হারাম সম্পদ থেকে দূরে থাকাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ।
ঘুষ মানুষকে ধনী করতে পারে, কিন্তু সম্মানিত করতে পারে না।
যে ব্যক্তি ঘুষ প্রত্যাখ্যান করতে পারে, সে নিজের চরিত্রের সর্বোচ্চ মর্যাদা রক্ষা করে।
অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ কখনো সত্যিকারের সুখ কিনতে পারে না।
ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত প্রতিটি সুবিধার পেছনে কারো না কারো অধিকার নষ্ট হয়ে যায়।
সৎ মানুষ সুযোগের অভাবে নয়, নীতির কারণে ঘুষ থেকে দূরে থাকে।
হারাম সম্পদ কখনো দোয়ার বরকত বাড়ায় না, বরং তা কবুল হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
যে সমাজ ঘুষকে স্বাভাবিক মনে করে, সে সমাজ ধীরে ধীরে ন্যায়বিচারের শক্তি হারিয়ে ফেলে।
আল্লাহর ভয়ে একটি ঘুষ ফিরিয়ে দেওয়া, দুনিয়ার বহু সম্পদের চেয়েও মূল্যবান হতে পারে।
ঘুষের টাকায় বড় হওয়া বাড়ি একদিন ভেঙে যেতে পারে, কিন্তু হালাল রিজিকের ছোট ঘরেও শান্তি থাকে।
ঘুষ গ্রহণের আগে মনে রাখুন, প্রতিটি হারাম উপার্জনের হিসাব একদিন অবশ্যই দিতে হবে।
হালাল পথে ধৈর্য ধরা কঠিন হতে পারে, কিন্তু সেটিই আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় পথ।
ঘুষ মানুষকে আইনের চোখে বাঁচাতে পারে, কিন্তু আল্লাহর বিচারের সামনে নয়।
যে ব্যক্তি নিজের বিবেক বিক্রি করে ঘুষ নেয়, সে আসলে নিজের সম্মানই হারিয়ে ফেলে।
অন্যায় সুবিধার জন্য বাড়ানো হাত ফিরিয়ে নেওয়াই একজন ঈমানদারের সৌন্দর্য।
ঘুষের পরিবর্তে সততাকে বেছে নিন, কারণ দুনিয়ার লাভ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আখিরাতের প্রতিদান চিরস্থায়ী।
হালাল উপার্জনের প্রতিটি কষ্ট একদিন রহমতে পরিণত হয়, আর ঘুষের প্রতিটি আনন্দ একদিন অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ঘুষ নিয়ে হাদিস
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আল্লাহ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের ওপর অভিশাপ করেছেন।”(সুনানে আবু দাউদ: ৩৫৮০, সুনানে তিরমিজি: ১৩৩৭, সহিহ)
আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা.) থেকে বর্ণিত:
“রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়কে অভিশাপ দিয়েছেন।”(সুনানে ইবন মাজাহ: ২৩১৩, সহিহ)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“ঘুষদাতা, ঘুষগ্রহীতা এবং তাদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী সবার ওপর আল্লাহর অভিশাপ।”(মুসনাদ আহমাদ: ৬৭৯১; আলবানী (রহ.) হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আমি যাকে কোনো কাজে নিয়োগ করি এবং তাকে পারিশ্রমিক দিই, এরপর সে এর বাইরে যা গ্রহণ করে, তা খিয়ানত (অবৈধ সম্পদ)।”(সুনানে আবু দাউদ: ২৯৪৩, সহিহ)
আবু হুমাইদ আস-সাঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত:
এক কর্মচারী বলল, “এটা আপনার জন্য, আর এটা আমাকে উপহার দেওয়া হয়েছে।” তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, “সে যদি তার পিতা-মাতার ঘরে বসে থাকত, তবে কি এই উপহার পেত?” এরপর তিনি সরকারি কর্মচারীদের উপহার গ্রহণের কঠোর নিন্দা করেন।
(সহিহ বুখারি: ৭১৭৪, সহিহ মুসলিম: ১৮৩২)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রাপ্ত উপহার হলো খিয়ানত।”(মুসনাদ আহমাদ; অর্থটি সহিহ বুখারি ৭১৭৪-এর বর্ণনায় সমর্থিত)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত জমিও দখল করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সাত স্তর জমি দিয়ে বেষ্টন করা হবে।”(সহিহ বুখারি: ২৪৫৩, সহিহ মুসলিম: ১৬১০)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি মানুষের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে, সে কিয়ামতের দিন তা বহন করে উপস্থিত হবে।”(সহিহ বুখারি: ৩১১৮ – অর্থগতভাবে)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“হারাম উপার্জনে লালিত দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না; জাহান্নামই তার জন্য অধিক উপযুক্ত।”(মুসনাদ আহমাদ; অর্থটি বিভিন্ন সহিহ বর্ণনায় সমর্থিত)
রাসূলুল্লাহ ﷺ এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন:
“সে দীর্ঘ সফর করে, অগোছালো চুল, ধূলিধূসরিত দেহ নিয়ে দু’হাত তুলে দোয়া করে, ‘হে আমার রব!’ অথচ তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা লালিত। তাহলে তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?”(সহিহ মুসলিম: ১০১৫)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।”(সহিহ মুসলিম: ১০১)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) জিনিসই গ্রহণ করেন।”(সহিহ মুসলিম: ১০১৫)
